Responsive Ad Slot

সর্বশেষ

latest

১৭ রমজান মুসলমানদের ঈমানী ঐক্য শক্তির ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ

বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

/ by ঢাকা-নিউজ ডেস্কঃ আরিফুল হাসান

এমএ করিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

বদর যুদ্ধ আরাবিয়া বর্ষপঞ্জি দ্বিতীয় হিজরী সনের রমজান মাসে সংঘটিত হয়। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের ইসলামের অভিযান গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান এ যুদ্ধ।৬২৪ আরাবিয়া খ্রিস্টাব্দে ১১ ই মার্চ শুক্রবার বদর যুদ্ধে মদিনায় হিজরতের মাত্র ১ বছর ৬মাস ২৮ দিন পরে এ যুদ্ধের ঘটনার। 

বদর যুদ্ধের মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের মর্যাদা ঐশ্বর্যের আত্মপ্রকাশ ঘটে,শুধু তাই নয় কুফরী ও শিরকদের যুদ্ধের মাধ্যমে  পার্থক্যকারী রচিয়তা গঠিত হয়। মুসলমানদের বদর যুদ্ধ ছিল ইসলামের ঐতিহাসিক প্রথম যুদ্ধ,আর তাই এ যুদ্ধে সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী যুদ্ধসমূহ নামে পরিচিত।শুধু তাই নয় এ যুদ্ধ ইসলামের অস্থিত্ব টিকিয়ে থাকা না থাকার যুদ্ধ এবং পিতা পুত্রের যুদ্ধের অপর নাম বদর যুদ্ধ।

মদিনা থেকে ৮০ মাইল দূরে সাধারণ একটি গ্রামের নাম এদিকে বদর বিন ইয়াখলিদ বদর বিন নজর নামনুসারে গ্রামের নামকরণ করা হয়,তাছাড়া সাহাবারা মনে করতেন বদর একটি কুপের নামনুসারে গ্রামের নামকরণ করা হয়।এদিকে মদিনায় ইহুদিদের নেতা ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই তবে রাসূল (সাঃ) মদীনায় আগমনের কালে তার নেতৃত্বে মারাত্মকভাবে ধ্বস নামে এতে করে সে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রকাশ করে।

তখনকার কুরাইশরা দূর্বলে আঘাত হানে বলে তাদের সম্মিলিতভাবে আক্রমণ ও যোদ্ধাদের সহ তাদের স্ত্রীদের দখলে আনার কথা বলে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার মূর্তিপূজারী সাথীরা রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এর সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়।(সুনানে আবু দাউদ হা ৩০০৪) এদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও মুসলমানদের ঈমানী পরীক্ষায় মদিনায় কাফেরদের আক্রমণের কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেন। এবং মুহাজির ও আনসারদের এইরকম দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে যুদ্ধের উৎফুল্লতা দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম যুদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন। 

এদিকে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবীদের নিয়ে বদর অভিমুখে রওনা হন,এবং বদর যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে মাত্র ২-৩টি ঘোড়া ছিল এবং৭০টা মাত্র উঠছিল এছাড়াও যুদ্ধাস্ত্র ছিল হাতেগোনা একেবারেই নগণ্য। তাছাড়া মক্কাবাসী সৈন্যবাহিনী ছিল প্রায় ১০০০ এবং ২০০ অস্ত্ররহী এবং তাদের বাহিনী ছিল পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র ও খাদ্যরসদে  সমৃদ্ধ।এ সময় বদর যুদ্ধে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা মুসলমানদের স্বয়ং সাহায্য করেছিলেন ১৭ রমজান শুক্রবার বদর যুদ্ধে পূর্ব রাতে হঠাৎ বৃষ্টি বর্ষণ করেন এতে মুসলমান বাহিনী শান্তির ঘুমে বিভোর ও আচ্ছন্ন এতে ক্লান্তি শ্লান্তি দূর হলো এবং বালুর কঙ্কর সব জমে শক্ত হয়ে গেল এবং তাতে মুসলমানদের চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ অাসে অতঃপর বদর যুদ্ধে মুসলমানদের ৩১৩জন ক্ষুদে বাহিনীর হাতে সেদিন পরাজিত হয়েছিল।

তাছাড়া,মক্কার ১০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনী ইসলামে মুসলমানদের ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে মুসলিম পক্ষের ৬ জন মুহাজির ৮জন আনসার শহীদ হন এবং কাফেরদের পক্ষে ৭০ জন শহীদ হন এবং ৭০ জন বন্দী হয় তাছাড়াও তাদের ২৪ জন তাদের নেতাদের বদর দুর্গন্ধময় কূপে নিক্ষেপ করা হয়। অথচ মুসলিম বাহিনীর জনবল ও যুদ্ধের সকল উপকরণ ছিল একেবারেই সীমিত তবে বদর প্রান্তে মুসলমানদের মধ্যে যে ইসলামী শক্তি ছিল একনিষ্ঠতা আজকের মুসলমানদের মধ্যে তা নেই এবং বিশ্বের কোন একটি দেশে  ইসলামপন্থীদের মধ্যে নেই কোনো সুদৃঢ় ঐক্য শক্তি আর তাই বিশ্বের কাছে মুসলিম জাতির করুণ এ অবস্থা এবং আল্লাহর সাহিত্য থেকে অনেকটাই বঞ্চিত।

তাছাড়া মুসলমান জাতি যদি বদর যুদ্ধ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত পরে সাহাবা একরামের ঈমানী চেতনায় উজ্জ্বীবিত হতে পারে তাহলে ইসলামের সুমহান মর্যাদায় আসীন হতে পারবে।শুধুমাত্র বদর যুদ্ধই নয় ইসলামের সকল যুদ্ধে কাফেরদের সংখ্যা অধিক ছিল আর বিপরীতে মুসলমানরা বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এতে প্রমাণিত হয় বিজয়ের জন্য অধিক জনসংখ্যার প্রয়োজন নেই শুধুমাত্র প্রয়োজন বদর যুদ্ধের মুসলমানদের মতো ঈমানী ঐক্যশক্তি।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি সময়েরদাবি ডট কমকে জানাতে ই-মেইল করুন- news@shomoyerdabi.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
সময়ের দাবি
© সময়ের দাবি (২০১৯-২০২০)
made with Antor Mittro